
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটেই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের বাড়ি চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বড়পাঙ্গাসী খোন্দকার নূরুন্নাহার জয়নাল আবেদীন দাখিল মাদ্রাসায়।
গত ১৯ অক্টোবর/২০২৬, সোমবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটক টিনের গেটে তালা ঝুলছে [ছবি সংযুক্ত]। বাউন্ডারি ওয়ালে প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্থাপিত ১৯৮৯ ইং লেখা থাকলেও ভেতরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান সকাল ৯ঃ৩০ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা রাখা বাধ্যতামূলক।
অত্র মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানীয় দোকানদার ও শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান, " মাদ্রাসার সুপার মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক স্যার আজ (১৯ অক্টোবর/২৬) প্রতিষ্ঠানে আসেন নাই। তাই অন্য স্যাররা ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকেই ছুটি দিয়ে বাসায় চলে গেছেন। প্রতিদিনই এমন করে।"
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সুপার মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, "আমি এডহক কমিটির পরিপত্র আনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডাকে সিরাজগঞ্জে গিয়েছিলাম। আমি অত্র প্রতিষ্ঠানের আরবি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা শাহ আলমকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলাম। তবে সরেজমিনে তার নির্দেশনা মানা হয়নি বলে তিনি জানান।"
দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ সকলেই সরকার নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩ ঘণ্টা আগেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন, যা দায়িত্বে চরম অবহেলা ও সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাদের বিশ্বাসকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিভাবকরা জানান, অত্র প্রতিষ্ঠানে এবতেদায়ীসহ দাখিল শাখা মিলে প্রায় ২৫০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের (সুপার) দুর্বল নেতৃত্ব ও নিয়মিত অনুপস্থিতির সুযোগে বাকি ১২ জন শিক্ষকও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে শিক্ষার মান বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে।
ভুক্তভোগীরা এহেন উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে সুপার মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিকসহ দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ-পাবনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আলোচিত নিয়ে আরও পড়ুন









দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।