২৭ অক্টোবর ২০২৬
preview
কুষ্টিয়ায় জামায়াতের লংমার্চ ঘিরে ভেন্যু বিতর্ক, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ।

মোঃ জাহিদ তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ায় আগামী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেশব্যাপী ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল গফুর বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর, গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবিতে দেশব্যাপী এ লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর রুটের লংমার্চ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা রুটের লংমার্চ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।


সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে কুষ্টিয়ার ‘শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম’ মাঠে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্টেডিয়ামটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করা যাবে না। পরে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়।


জেলা প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে জেলা স্কুল মাঠে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আব্দুল গফুর। ওই মাঠকে কেন্দ্র করে পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণসহ প্রচার-প্রচারণার কাজও প্রায় শেষ হয়েছিল।


কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসন হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠিয়ে জেলা স্কুল মাঠের পরিবর্তে আবার স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।


জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াত নেতারা বলেন, ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তাঁদের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনুমতিপত্রের অনুলিপি অনুমোদিত ব্যক্তি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি জানান দলটির নেতারা।


তবে স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলেও আগামী ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। সাত দফা দাবির পক্ষে সমাবেশে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রত্যাশাও জানান জামায়াত নেতারা।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এনামুল হক, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ ।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com