২৩ অক্টোবর ২০২৬
preview
সীতাকুন্ডে মুসকান ওয়াটার নিয়ে সংবাদ অনুসন্ধান: সাংবাদিক জয়নাল আবদিনের আটক ও মামলা ঘিরে প্রশ্ন,উদ্বেগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।।২১ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ,পরে মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি—সাংবাদিকের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান

জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া জিতু, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রতিনিধি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মুসকান ওয়াটার–সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন কে আটক ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাঁকে প্রায় ২১ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।পরে মামলার মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা,তথ্য অনুসন্ধানের অধিকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মুসকান ওয়াটারের তথ্যসূত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয় অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাই করে প্রকাশ করা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব।তবে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, তাহলে পুরো ঘটনার আইনগত ভিত্তি,প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সাংবাদিককে আটকে রাখার সময় কী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল?তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল?অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না?সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে তা-ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা জরুরি।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার:

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম, ভোক্তা অধিকার কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক,বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা আইনসাপেক্ষে প্রযোজ্য।
তবে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই,নিরপেক্ষতা, পেশাগত নীতিমালা ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে হয়।একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁর পেশাগত পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আইনকে পাশ কাটানো যাবে না, আবার সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে হয়রানি বা অন্যায় আচরণের শিকার হতে দেওয়া যায় না। অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে স্বচ্ছ,নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায়।

একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

সাংবাদিক জয়নাল আবেদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।একজন সাংবাদিক যদি জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে হয়রানি বা অন্যায় আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন,তাহলে সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
তবে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া নয়,বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি

সাংবাদিক জয়নাল আবেদিনের আটকে থাকার সময়কাল,তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন, অভিযোগকারী পক্ষ ও সাংবাদিকের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
কোনো সাংবাদিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যেন হয়রানি,প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রতিহিংসার সুযোগ তৈরি না হয়,তা নিশ্চিত করতে হবে।অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অনুচিত,তেমনি কোনো প্রভাবশালী পক্ষের স্বার্থে আইন প্রয়োগে বৈষম্য থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাই সাংবাদিক জয়নাল আবেদিনের ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং আইন অনুযায়ী ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।

সত্য প্রকাশের পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়,আবার আইনের অপব্যবহারও যেন না ঘটে—এটাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতা,প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার কাছে মানুষের প্রত্যাশা।


সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |

ফোন : 01715248243 (Whatsapp), ই-মেইল: notundrishti247@gmail.com