

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সংকট এবং দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেকেই ভবিষ্যতের আশঙ্কায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছুটে যান। এতে বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয় এবং সাময়িকভাবে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
উপজেলার তারাগুনিয়ার সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লাহর দরগা বাজারের রফিক ফিলিং স্টেশন, খলিশাকুন্ডি বাজারের খালেক ফিলিং স্টেশনসহ দৌলতপুর বাজারের বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেক চালক ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহেরও চেষ্টা করেন।
তবে ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, কোথাও জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। নিয়মিতভাবেই ডিপু থেকে জ্বালানি আসছে এবং বিক্রিও স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবের কারণে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “ডিপুতে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ চলছে। আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
তিনি আরও জানান, গুজব ছড়ানোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজবে বিশ্বাস না করতে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি মজুত না করতে। তাদের মতে, ভিত্তিহীন আতঙ্কই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দেয় এবং এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়।
দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।